ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেন্দীগঞ্জে মিথ্যা স্থায়ী ঠিকানা দিয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের অভিযোগ, বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-২৩ ২২:৫০:৪৮
মেহেন্দীগঞ্জে মিথ্যা স্থায়ী ঠিকানা দিয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের অভিযোগ, বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীরা মেহেন্দীগঞ্জে মিথ্যা স্থায়ী ঠিকানা দিয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের অভিযোগ, বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

​বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক ইউনিয়নে মিথ্যা ও ভূয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অত্র এলাকার প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বঞ্চিত করে একটি অদৃশ্য চক্রের মাধ্যমে অন্য উপজেলার বাসিন্দাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত "বরিশাল সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি"-র অধীনে হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট (স্বাস্থ্য সহকারী) পদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় মেধা ও সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন আন্দারমানিক ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের মাহমুদা বেগম (রোল নম্বর: ২৪২৯১৪০৬১৬১)। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের পুরাতন ০২ নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী পদে প্রিন্স সাহেদ বিন মুজিব (রোল নম্বর: ২৪২৯১৪০৫২৮৯) নামের এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় প্রার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিন্স সাহেদ বিন মুজিব (পিতা: এ.কে.এম মুজিববর রহমান, মাতা: লাভলী ইয়াসমিন) প্রকৃতপক্ষে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নন। তাঁর প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার গুয়াাবাড়িয়া ইউনিয়নের পত্তনী ভাঙ্গা গ্রাম,তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দাপটে বরিশাল জেলার মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহ হাতে হাত রেখে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির হাত ধরে এই অবস্থান তৈরি করে নেয় এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অভিযোগকারী মাহমুদা বেগম। 

আন্দারমানিক ইউনিয়নের যোগ্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় এই নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে নিয়োগবিধি বহির্ভূত। একটি অদৃশ্য চক্রের যোগসাজশে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে, যার ফলে এলাকার প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগকারী মাহমুদা বেগম জানান, "আমি একজন প্রকৃত স্থানীয় এবং যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও জালিয়াতির কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এটি নিয়োগ নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।"

ভুক্তভোগীরা এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে সরজমিনে সঠিক তদন্ত পরিচালনা করে ভূয়া তথ্য দেওয়া প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল এবং আন্দারমানিক ইউনিয়নের প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীকে উক্ত পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



 


নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ